কলেজের প্রতিষ্ঠা ও নামকরণের ইতিহাস

 

তৎকালীন বৃটিশ ভারতের মালদহ জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদশিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক ইদ্রিশ আহমদ মিঞা তাঁর নিজ গ্রাম দাদনচকে বিশ শতকের প্রথম পাদেই প্রতিষ্ঠান করেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা। উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে তিনি তাঁর সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন। বিশের দশকে নিজ কর্মগুণে বৃহত্তর মালদহমুর্শিদাবাদ এবং রাজশাহী জেলায় তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর আত্নত্যাগ ও মহৎ কর্মযজ্ঞই তাঁকে খ্যাতিমান করে তুলেছিল।

 

তিনি জানতেন আর্থ-সামাজিক উৎকর্ষ সাধনের মূলমন্ত্র বা চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। তাই উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করাই তখন তাঁর জীবনের ব্রত হয়ে উঠেছিল। বিশের দশকে শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক এর সহচর্যে এসে ইদ্রিশ আহমদ রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। তাঁর মেধা ও দক্ষতার গুণে তিনি হক সাহেবের বিশিষ্ট রাজনৈতিক সহচর এবং দক্ষিণ হস্ত হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন। এক সময় ফজলুল হক তাঁকে বঙ্গীয় কৃষকপ্রজা পার্টিতে যোগ দেবার পরামর্শ দেন। ইদ্রিশ আহমদ হক সাহেবের পার্টিতে যোগ দেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁর প্রজ্ঞাধী-শক্তি ও মধুর আচরণের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর কয়েক মাসের মধ্যে ইদ্রিশ আহমদ মালদহ জেলা কৃষক প্রজা পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। ইদ্রিশ আহমদ উপলদ্ধি করেছিলেন যে রাজনৈতিক শক্তি এবং জনপ্রতিনিধিত্বের আইন সম্মত অধিকারের মিলিত প্রভাব দ্বারাই তিনি তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ১৯২৬ সনে তিনি তাঁর নিজ ইউনিয়ন বোর্ড দুর্লভপুরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

 

ইদ্রিশ আহমদ কলেজ প্রতিষ্ঠার সেই শুভক্ষণের প্রতীক্ষায় ছিলেন। সেই ক্ষণ এসে যায় ১৯৩৫ সনের ভারত আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার ফলে। তিনি ১৯৩৭ খ্রি. বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে কৃষক প্রজাপার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তিনি দক্ষিণ মালদহ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী ছিলেন। শেরে বাংলা এ,কেফজলুল হক বাংলার মূখ্য মন্ত্রী হন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পিত হয়।

 

বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার প্রথম অধিবেশনে ইদ্রিশ আহমদ শিক্ষা দীক্ষায় অনগ্রসর মালদহ জেলায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কোর্স প্লান উত্থাপন করেন। অত্যন্ত বলিষ্ঠযুক্তিপূর্ণ এবং আবেগময় ভাষায় তিনি উচ্চ শিক্ষা বিকাশের পক্ষে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর এই বক্তব্য সভায় সকল সদস্য অকুন্ঠচিত্তে সমর্থন করেন এবং প্রস্তাবটি পাশ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ফজলুল হক সাহেবের পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা পেয়ে ১৯৩৮ খ্রি. তিনি আদিনা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

কলেজের নামকরণ : উত্তর মালদহের আদিনা শহাজারি ওয়াকফ স্টেটের মতওয়াল্লি বেগম শামসুন্নাহার কলেজের উন্নতিকল্পে তিনশত বিঘা জমি দান করেছিলেন। কিন্তু এ সব জমি কলেজের উন্নয়নে ব্যবহার হয়েছিল কিনা তা জানা যায় না। তবে কলেজের নামের সাথে আদিনা শব্দটি রয়ে যায় যা এখনো বিদ্যমান। কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফজলুল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তাই ইদ্রিশ আহমদ হক সাহেবকে স্মরনীয় করে রাখার জন্য কলেজের নাম দেন আদিনা ফজলুল হক কলেজ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিকে প্রথমেই স্থায়ী এফিলিয়েশন দান করে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বাংলাইংরেজিআরবিফার্সিউর্দুসংস্কৃতইতিহাসপৌরনীতিযুক্তিবিদ্যা ও গণিত এই দশটি বিষয় পড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ জনাব মোঃ সানাউল্লাহএম,এ (আরবি)।

 

সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জী : ১৯৩৮ খ্রি. আদিনা কলেজ স্থাপিত১৯৬৪ খ্রি. স্নাতক শ্রেণির (বি.এবি.কম) ক্লাস শুরু১৯৬৭ খ্রি. এইচএসসি পর্যায়ে বিজ্ঞান শাখার উদ্বোধন১৯৭৮ খ্রি. বি.এস-সি উদ্বোধন১৯৮৬ খ্রি. জাতীয় করণ২০০৬ খ্রি. স্নাতক সম্মান বিষয়ে ক্লাশ শুরু (বিষয়- ইংরেজিইতিহাসদর্শনরাষ্ট্রবিজ্ঞানউদ্ভিদবিদ্যাগণিত ও প্রাণিবিদ্যা)